দক্ষিণ এশিয়া বাংলাদেশ

5০9106:11005://0011170175.%/10175019.010//1/119:1190-17810-01076_5/70.5৬0

ড. মোহাম্মদ আমিনুর রহমান

দক্ষিণ এশিয়া বাংলাদেশ ড. মোহাম্মদ আমিনুর রহমান

প্রথম প্রকাশ: জুলাই ২০২১ প্রচ্ছদ: 11109://001111019./11116012.010//11/7116:1180-11810 0116 9/730.9৬

অলংকরণ: আবদুল আযীয

স্বত্ব: ড. মোহাম্মদ আমিনুর রহমান মুল্য:

বাংলাদেশ ৩৫০ টাকা,

ভারত ২০০ রূপি,

ইউ এস ডলার ২০

50901115519 210 89110190551)

[01 180. /া]11001 লিজাাালা।

71151 170101151799: 41, 2021 [17011511611: 11. 119. /9111110]1 17211117207 71109:

821701909917 1 912: 350

|17012.: 200 701092

))5 1001191: 20

নিবেদন, পাঠকের প্রতি

নিবন্ধগুলো দীর্ঘসময় ধরে লেখা হয়েছে যা প্রায় একটি দশককে ধারণ করে কিন্তু প্রকৃত অর্থে এগুলোর এমন একটা সুর আছে যা সময়কে অতিক্রম করতে সক্ষম। নিবন্ধগুলো যেসব বিষয়কে ধারণ করে তার প্রায়-সার্বজনীন ব্যাখ্যা দিতে পেরেছে; যা ভবিষ্যতকে পথ দেখাতে পারে কিংবা বলা যায় ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনার পরিধি তৈরী করতে পারে এটা অনেকটা একটা মানচিত্রের মত, যা পুরোনো হলেও একজন টুরিস্টের জন্য প্রয়োজনীয় সব সময়েই সে অর্থে বর্তমান বইটি পাঠককে বঞ্চিত করবে না বলে আমার বিশ্বাস। অবশ্য সেটি কেবল লেখকের উপর নয় পাঠকের সংশ্লিস্টতার উপরও নির্ভর করে

বইটির নামকরণে দক্ষিণ এশিয়া প্রাধান্য পেলেও মূলতঃ বাংলাদেশ ভারত বিষয়ক গুরুত্ত্বপূর্ণ ইস্ঢু নিয়ে লিখিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে যেমন গুরুত্ব পেয়েছে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক, নদীর পানি সমস্যা, সার্কের মত বিষয় তেমনি গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের নারী অধিকার, আত্মহত্যা, উন্নয়ন বইপড়া বিষয়ক ভাবনা আমার ধারনা, সবগুলো বিষয় পাঠককে একটা সামগ্রিক বিষয়ে আচ্ছনন করবে যে বিষয়টি অতি যত্রের সাথে বিবেচনায় রাখা হয়েছে তাহলো পাঠকের অধিকার এবং সে অধিকারকে ক্ষুনন না হতে দেওয়া

পরিশেষে যা কিছু অপ্রাপ্তি লেখক হিসাবে তা আমার এবং তার সকল সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে।

দক্ষিণ এশিয় ভাবনা

১. সুচীর নোবেল বক্তৃতা, আনান কমিশনের রিপোর্ট এবং রোহিংগাদের ভবিষ্যত ২. দক্ষিণ এশীয় উন্নয়ন সার্ক ৩. সার্ক উন্নয়ন ব্যাংক: আন্তগ্দেশীয় উন্নয়নে বাধা দূর করবে

মালছ্বীপ সার্ক সম্মেলন দক্ষিণ এশীয় মনক্কতা বাংলাদেশের দেশের পানি কূটনীতি সংকট ৬. তিস্তা কাহিনী: কি ভাবছে পশ্চিম বঙ্গ?

8 91110

90 ॥01/550081101 0 1801018 (000)081101

9$০১৩১৩৩

০০

]181001 88108486 618 18081 ৮॥ গিএঠ॥া 5

সূচীর নোবেল বক্তৃতা, আনান কমিশনের রিপোর্ট এবং রোহিংগাদের ভবিষ্যত

আমরা সম্ভবত এমন একটা সময় পার করছি যখন বিশ্ব একের পর এক জাতিগত সমস্যাসহ নানাধরণের সমস্যা অতিক্রম করে চলেছে তার মধ্যে অন্যতম ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গত শতাব্দীর কসোভোর মুসলিম জাতিগত সংকট এবং ইরাকের কুর্দি সংকট দক্ষিণ এশিয়ায় আফগানিস্থানকে কেন্দ্র করে যে তালিবান উ্থান তা ছিল ভয়ংকর; যদিও সেটা ছিল রাশিয়ার অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ কৌশলের অংশ যা পশ্চিমা দেশের বিশেষ করে আমেরিকার প্রত্যক্ষ সমর্থনে যা পাকিস্থানে গঠিত হয়েছিল তবে যা মন্দের ভালো ছিল তাহলো, সেখানে কোন জাতিগত বিষয় ছিল না; বলা যায় ১৯৪৭-এ ভারতবর্ষ বিভক্তির পর 'ধর্ম কিংবা বর্ণ যাই বলিনা কেন এদুটো তেমন কোন সমস্যা হয়ে দেখা দেয়নি দক্ষিণ এশিয়ায় কিংবা নিকটবর্তী দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে এমনকি গণতন্ত্র নিয়েও না; যদিও মায়ানমারে (তৎকালীন বার্মা) সেনা শাসন নিয়ে একটা বিতর্ক চলছিল যার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন অং সান সুচি। বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং বহুপাক্ষিক- নির্বাচন নিয়ে সুচির যে আন্দোলন, তার জন্যে তিনি ১৯৯১ সালে নোবেল পুরষ্কার লাভ করেন কিন্তু মায়ানমারে অন্য যে সমস্যাটি দীর্ঘদিন ধরে ছিল যেমন “কারেন বিদ্রোহ" কিংবা “রোহিংগা সমস্যা” সে সমস্যাগ্তলোর সমাধানকল্পে তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয়নি; যা ছিল জাতিগত সমস্যা এবং ধর্মীয়-জাতিগত সমস্যা মায়ানমারের অধিকাংশ অধিবাসির ধর্ম বৌদ্ধ হওয়াই সেখানে অন্য ধর্মের প্রতি সহানুভূতির অভাব রয়েছে: বিশেষ করে রাখাইন রাজ্যের মুসলমানদের প্রতি, যারা বর্তমানে দলে দলে বাংলাদেশে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, রাখাইন রাজ্যের রোহিংগাদের বিরুদ্ধে টেঝুট-বুক-এথনিক -ক্লিনজিং-এর; যা মানবাধিকার লংঘনের নিকৃষ্টতম ধরণ প্রশ্ন হতে পারে অং সান সুচি এবিষয়ে সাম্প্রতিক যে সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন, সেখানে তার করনীয় কি ছিল, যা তিনি এড়িয়ে গেছেন কিংবা মানবাধিকার বিষয়ে তার ধারণা কি ? এক্ষেত্রে আমি অং সান সুচির নোবেল বক্তৃতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখানে তুলে ধরা প্রাসংগিক মনে করছি : “...যখন আমি থাইল্যান্ডে গিয়েছিলাম, আনেক বার্মিজ রিফিউজি এবং কর্মীরা আমাকে বলেছিলেন, “আমাদেরকে ভূলে যেও না", তারা বলতে চেয়েছিল, আমাদের অবস্থা ভুলে যেওনা, আমাদের সাহায্য করার কথা ভুলে যেও না; ভুলোনা আমরা তোমার জীবনের অংশ ।......মখন নোবেল কমিটি আমাকে পুরস্কৃত করেছে তার অর্থ সেসব বিচ্ছিন্ন বার্মিজদের স্বীকৃতি দিল। ...সুতরাং আমার কাছে নোবেল

প্রাপ্তির অর্থ হলো, গণতন্ত্র এবং শান্তির প্রতি আমার নিজের দায়িত্বকে বৃদ্ধি করা; এবং শান্তিতে নোবেল

সুচি তার নোবেল বক্তৃতায় বলেন, “আমি সেইসব বন্দী, শরণার্থী, প্রবাসী শ্রমিক এবং পাচারের শিকার মানুষদের কথা ভাবি, যারা তাদের নিজ গৃহ থেকে বিতাড়িত হয়েছে এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে তাদের পরিবার এবং বন্ধুদের থেকে এবং বাধ্য হচ্ছে তাদের সাথে বাস করতে যাদেরকে তারা পছন্দ করে না।......মদি আমাকে (সুচিকে) জিজ্ঞাসা করা হয়, আমি কেন মানবাধিকার নিয়ে লড়াই করছি, তার উত্তর হলো আমি জাতিসংঘের সার্বজনীন মানবাধিকার সনদ সমর্থন করি ....... যদি প্রশ্ন করা হয়, সেগুলো চর্চা করার

8 প্রকৃত লক্ষ্য হলো এমন পৃথিবী তৈরী করা যেখানে কোন বাস্তুদুত, গৃহহীন ,এবং হতাশায় নিমজ্জিত মানুষ থাকবেনা; এমন পৃথিবী যা হবে প্রকৃত নিরাপদ আশ্রয়স্থল যার অধিবাসিদের থাকবে স্বাধীনতা এবং শান্তিতে বাস করার অধিকার

এবং যখন সুচি একথা বলেন, 1৬০1৮ 00081), ০৮০1৮ %01, 870 ০৮০7৮ 8০010] 018 8005 19 016 [99101৮6 8170 (116 ৬1101950107 15 00101110110101) 10 09809. 15801) 2110 ০৬০1% 0109 01 1713 19 081)9016 09110910115 9001) ৫. ০01011110001011. 19110191011) 1191105 (0119 (0 01986 1)০9০910]

ড/01]0 ৬/1216 ৮৮০ 081) 919910 11) 5০০011165 8170 ৮8106 11) 119101011955.

একথাগ্ডলো যে সুচির তা হয়তো এখন অনেকের ভাবতে কষ্ট হবে যদিও তিনি তা সারা বিশ্বের মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছিলেন তার কর্তব্য হিসাবে কেবল তাই নয়, তিনি সবাইকে অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে বলেছিলেন, যেখানে সবাই শান্তিতে ঘুমাতে এবং কাজ করতে পারবে এর সাথে আজকের রোহিংগাদরে বাস্তবতার কতই না অমিল, যার জন্য তিনি নিজেও দায়ী বটে। কাতার নোবেল কমিটি ১৪ অক্টোবর ১৯৯১-তে সুচিকে নোবেল পুরফ্কারের ঘোষনায় বলেছিলেন, “]1) 8৪৮78101115 016 00০91 199০০ 11176 00 4১176 ১81) ১] 7:51, 0116 101৬/9812) 1২09০1 0010010010066 ড/191)93 (0 1001700]1:01015 ৮/010081) 101 1061 01011955116 6110105 8100 00 510%% 103 50100011101 1019 1119179 [0901016 1101090151)001 1116 ৬0110 ৬/170 819 9011116 10 2100911)

06100090190, 1000111917 1151)09 8100 9011010 00110111811011 109 109৪091] 109815.”

পাঠক, নিশ্চয়ই নোবেল কমিটির সেই প্রত্যাশা এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে? তবে সুচি নোবেল ভাষনে যা বলেছিলেন তার সাথে তার শেষ বক্তৃতার যে অমিল তা বিশ্বব্যাপি মানুষকে আহত করেছে। এটা স্পষ্ট যে, তিনি সত্য আড়াল করেছেন এবং রাখাইন বিষয়ে সেনা-সরকারের কাছে আত্মসমর্পন করেছেন ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে; বিশ্ব অভিমত হলো, রোহিংগা সমস্যার সমাধান করার যথেষ্ট সুযোগ সুচির রয়েছে কিন্তু মায়ানমারের একগুয়ে শাসকদের থেকে তাকে আলাদা করে দেখা যাচ্ছে না। তিনি যদি আনান কমিশনের সুপারিশ কার্যকরী করতে চান তাহলে বিশ্ব জনমত যে তার পাশে থাকবে তাতে কোন সন্দেহ নেই হতাশ শান্তিতে ঘুমাতে এবং কাজ করতে পারবে, সুচি বলেছিলেন, কেউ যেন বাস্তচ্দুত নাহয়, যেন তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অন্য কোথাও বাস না করে। সম্ভবত: সুচি তার নোবেল বক্তৃতা ভুলে গেছেন, অথবা রোহিংগাদের যন্ত্রণা তিনি উপলব্ধি করতে পারছেন না, হয়তো ধমীয়ি প্রতিহিংসার কিংবা অন্য কোন কারণে যদিও তিনি আনান কমিশনের রিপোর্টকে স্বাগত জানিয়েছেন

প্রসংগে আনান কমিশনের রিপোর্ট কিছুটা হলেও আলোচনা করা দরকার যেখানে সমস্যা সমাধানের জন্য পথ বাতলে দেয়া হয়েছে; যা পাঠককে বিষয়টা বুঝতে সাহায্য করবে আনান কমিশন মায়ানমার এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন স্টেকহোন্ডারদের সাথে কথা বলেছেন যারা রোহিংগা বিষয়ের সাথে জড়িত এবং সব তথ্য উপাত্ত বিশ্রেষণ শেষে কমিশন যে রিপোর্ট প্রণয়ন করেছেন তা ১২ টি থিম দ্বারা বিন্যস্ত থিমগ্ডলো হলো,

১.11011/৭11 বি/এব8006595 ২০601, /00655 3. 09106 /এব0 বি01 01/4 4. 80061550165

/301716 911 ৮163ি 61/510191712 ৬1111 8/35180591 5. 590109606030110 0551021861৭ 6.3/131130 01 920031117013065 7. 01112515111 /930 17366001017 105185া8. 01099012017 197 0/25 9. 0017 01/1-159065 10. 14 6২-001801/-101/4-005016 11-136213696)বা /ডা 10৭ ঞএখি১ 2/১২1016/10 ৭1 208110116 12. 320101/1-13561/105 (||বা 6২11 3260 /301350601/85130/510135 : /0৬1501 001155103 07 13/41116 91/11/3017 2017) |

রিপোর্টটি অসাধারণ দক্ষতা এবং প্রজ্ঞা দ্বারা লিখিত হয়েছে, এত স্বল্প পরিসরে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ সচরাচর দেখা যায়না এখানে গুরুত্ৃপূর্ণ কয়েকটি সেকশন আলোচনা করছি। প্রথম বিষয় “হিউমেনিটারিয়ান গ্যাকসেস'-যেখানে বলা হয়েছে “মায়ানমার এবং রাখাইন রাজ্য সরকার রাখাইনদের মধ্যে সকল প্রকার মানবিক সাহায্যের অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করবে...এবং যারা এই সহিংসতায় আক্রান্ত তাদের কাছে পর্যাপ্ত সহযোগিতা নিশ্চিত করবে

দ্বিতীয় সেকশনে “মিডিয়া এক্সেস" নিয়ে যে আলোচনা করা হয়েছে তা গুরুত্বপূর্ণ এবিষয়ে আনান কমিশন যে সুপারিশ করেছে তাহলো, “যেসব স্থানে রহিংগাদের বিরুদ্ধে বর্তমান সহিংসতা সংঘঠিত হয়েছে সেসব স্থানে অভ্যন্তরীন এবং আন্তজাতিক মিডিয়াগ্ুলোর গমণ এবং তথ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে'। তৃতীয় বিষয় হিসাবে আলোচিত হয়েছে, 'জাস্টিস্‌ এবং রুল্স অফ লণ সুপারিশে বলা হয়েছে, “মায়ানমার সরকার পক্ষপাতহীন তদন্তের মাধ্যমে যারা মানবাধিকার লংঘন করেছে তাদের চিহ্নিত দায়ী করবে'। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয় আলোচিত হয়েছে তাহলো, “বর্ডার ইস্মুজ এন্ড দ্য বাইল্যাটেরাল রিলেশনশিপ উইথ্‌ বাংলাদেশ সেকশনে , কমিশনের সুপারিশ হলো ,মায়ানমার সরকার অতি দ্রুত বাংলাদেশ সরকারের সাথে জয়েন্ট কমিশন গঠন করবে এবং ফেরত আসা শরনার্থীদের পূর্ণবাসন করবে ......যখন উত্তর রাখাইন স্টেটে শরনার্ীরা ফেরত আসবে তখন মায়ানমার সরকার তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে এবং প্রয়োজনানুযায়ী ধ্বংসপ্রাপ্ত বাড়িঘর নির্মানে সহায়তা করবে'। এবং ১২তম বিষয়ের শিরোনাম হলো, “রেজিওনাল রিলেসন্স? রাজ্য পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করে এবং এজন্য বিশেষ দূত প্রেরণের মাধ্যমে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ রেখে চলে?

আনান কমিশনের এই প্রস্তাবনা যদি কার্যকরী করার জন্য এখন থেকেই “মায়ানমার সরকার' আন্তরিক হয় তাহলে এই সমস্যার কার্যকরী এবং বাস্তবসম্মত সমাধান সম্ভব কিন্তু পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে মায়ানমার সরকারের উপর কারণ এর সমাধান তাদের হাতে বাংলাদেশ এখন যে সমস্যায় পড়লো, তা অনেকটা উদোর পিভি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর মতো এখন পর্যন্ত আন্তজাতিক মহল এমনকি জাতিসংঘ যে ভূমিকা পালন করেছে তা বেশ নজর কাড়ার মত যদিও নিরাপত্তা পরিষদ বিশ্ব বিবেককে এবিষয়ে হতাশ করেছে তবে বাংলাদেশের জন্য দুটি ফোরামে কথা বলার সুযোগ আছে, একটা আসিয়ান, আর একটা সার্ক এবং অনেকদিন পর সার্কের একটা একমত হওয়ার সুযোগ তৈরী হয়েছে রোহিংগা ইস্যুতে; অবশ্য যদি ভারতের মতকে পক্ষে রাখা যায়। এজন্য জরুরী ভিত্তিতে বাংলাদেশ সার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটা মিটিং আহবান করতে পারে এবং যদি

রোহিংগা বিষয়ে একটা সর্বসম্মত স্টেটমেন্ট দেওয়াতে পারে তা নাহলে নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশ “রোহিংগা ইস্মুতে' একা হয়ে যেতে পারে তাই আঞ্চলিক কুটনীতিতে বেশী জোর দিতে হবে, দূরের দেশগুলোর সাথে সাথে মনে রাখতে হবে, রোহিংগা সমস্যা অভিদ্রুত “দক্ষিণ এশীয়' সমস্যা হয়ে দেখা দেবে; যখন ভারত নানাভাবে বিষয়টি ব্যাখ্যা করছে। কারণ ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রাজনাথ সিং সম্প্রতি “রোহিংগা ইস্মুতে' বলেছেন, 4179 815 1115591 101578115, 10116058০65; লক্ষ্য করার মতো, বিষয়টি বাংলাদেশের মতের সাথে মোটেও সংগতিপূর্ণ নয়। কেবল তাই নয়,তিনি তাদের মধ্যে ইসলামী সন্ত্রাসবাদের গন্ধ পাচ্ছেন, যে বৌদ্ধরা তাদের হত্যা করলো এবং করছে সেই বার্মিজদের নিয়ে কোন মন্তব্য করেন নি। এমনও হতে পারে, মমতা ব্যনাজী রোহিংগাদের আশ্রয় দেওয়ার কথা বলায় বিজেপি সরকার তার রাজনৈতিক হিসেব নিকেশে ব্যত্ত আছে।

রোহিংগাদের ভবিষ্যত নিয়ে এখন এমন আশংকা করলে বোধহয় সেটা অবাস্তব হবে না, না-জানি নতুন কোন ফিলিস্তিনি সমস্যার জন্ম হতে চলেছে কিনা(?) যেখানে ইসরায়েলের ভূমিকায় দেখা যাবে “মায়ানমারকে' আর ফিলিছ্বিনির ভূমিকায় “রোহিংগাদের+ পার্থক্য আঞ্গলিক বিন্যাসে, একটা মধ্য এশিয়ায় আর একটা দক্ষিণ এশিয়ায়; আর নির্যাতিত জনগোষ্ঠী হলো “ধর্মে মুসলমান নির্যাতনকারী ওখানে “ইহুদী আর এখানে বৌদ্ধ?

শেষ করবো বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলীর একটি উক্তি দিয়ে, “179 1091005 005 9910010 1010......একথা আমিও জানি, তুমিও জানো; বিলক্ষণ ওই কুকুরটি জানে না..; অতএব পথিক সাবধান! মনে হয় রোহিংগা ইস্যুতে মায়ানমার সম্পর্কে সৈয়দ মুজতবা আলীর এই পর্যবেক্ষণ সত্য হতে চলেছে?

দক্ষিণ এশীয় উন্নয়ন সার্ক

১৯৮৫ সালে সার্ক প্রতিষ্ঠা হয়েছিল যে আবেগ, যুক্তি স্বপ্ন নিয়ে, তা পুরো দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের মধ্যে একটি আকাঙক্ষার জন্ম দিয়েছিল। আর তা হলো- দরিদ্র সামাজিক অসাম্যমুক্ত একটি আঞ্গলিক সত্তা হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার বিকাশ; যেখানে সীমানা থাকলেও মানুষের মনে কোনো সীমানা কিংবা বিভেদ রেখা থাকবে না। আমাদের পরিচয় হবে, 'আমরা দক্ষিণ এশিয়ার নাগরিক" রাজনীতি সমাজবিজ্ঞানের পরিমন্ডলে এটি হবে নবতর সংযোজন আর আকাঙক্ষার পেছনে কাজ করছে আমাদের হাজার বছরের পরিচয় আমাদের পূর্বপুরুষরা একদিন একই আবাসে একসঙ্গে জীবন যাপন করেছিল, জীবন সংগ্রামে জয়ী হতে উদ্ভাবন করেছিল নব নব উৎপাদন পদ্ধতি, আমাদের সংস্কৃতির মধ্যে রয়েছে সমভাবনা, জীবনযাপন রীতি। তাই দেখা যায়, খাজুরাহো, মহেঞ্জোদারো আর পাহাড়পুর একই ভৌগোলিক সীমারেখায় একই মানবগোষ্ঠী দ্বারা তৈরী হয়েছে। সভ্যতার বিকাশে তাদের অবদান অবশ্যই অপরিমেয় সমভাবনার ভিত্তিভূমির ওপর দীড়িয়ে সার্ক প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন” যা করতে পেরেছে, আমরা কি সার্কের লক্ষ্য বাস্তবায়নে তা করতে পারব। এখন পর্যন্ত একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা হিসেবে সার্কের অর্জন কতিপয় উইং স্থাপন চুক্তি করা তবে কখনো কখনো এটি গতির সঙ্গে কাজ করেছে। সংস্থাটির সবচেয়ে বড় অর্জন সার্কের সদর দপ্তর স্থাপন এবং মহাসচিব পদের সৃষ্টি এনার্জি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ, ভারত নেপালের মধ্যে তা কিছুটা হলেও কার্ষকরী হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ভারতের কাছ থেকে তড়িৎ-ভ্বালানি কিনবে ট্রেড-লিবারেলাইজেশনের জন্য যে ট্যারিফ হাস করা দরকার, পোর্টে যেসব যান্ত্রিক সুবিধা দরকার, সেক্ষেত্রে অর্জন অতি নগণ্য তবে ইদানীং সন্ত্রাসবাদ দমনে টাক্ষফোর্স গঠনে সব সদস্যই একমত হয়েছে। সার্ক আ্যান্টি-টেরোরিজম টাক্ষফোর্স গঠিত হয়েছে। এছাড়া সার্ক ব্রডকাষ্টিং সেন্টার ডকুমেন্টেশন সেন্টার স্থাপিত হয়েছে।

তবে এরই মধ্যে আরো যা করা দরকার ছিল, তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, দক্ষিণ এশীয়মনক্ক নাগরিক তৈরি করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেয়া তাছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন মডেলে “সার্ক পার্লামেন্ট' গঠনের মতো বিষয় এখনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার মধ্যে দেখা যায় না। এমনকি আমরা পারিনি সব মানুষের জন্য সার্ক ভিসা চালু করতে একটি সার্ক বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে তবে তার পঠনরীতি কতটা দক্ষিণ এশীয়মনস্ক নাগরিক কিংবা যুব সম্প্রদায় তৈরিতে সক্ষম, তা তেমন স্পষ্ট নয়। আর ইউরোর" মতো সার্কমুদ্রা চালু করা, তা আদৌ হতে কিনা, সেটি তো আমার মতো অতি স্বাপ্রিকের পক্ষেও বলা সম্ভব নয়। সার্ক নামক প্রতিষ্ঠানটির বিকাশের পক্ষে বড় বাধা হচ্ছে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এর বড় ধাক্কা হলো ইসলামাবাদ সার্ক সামিট, ২০১৬ স্থগিত

হওয়া। এটি সাম্প্রতিক অতীতে সার্কের জন্য বড় ব্যর্থতা। তাছাড়া আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখতে ভারতের মনোভাব সার্কের পরিপন্থী কারণ ভারত সব সমস্যার সমাধান দ্বিপক্ষীয় ভিক্তিতে করতে চায় যেমন- কাশ্বীর সমস্যা সমাধান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে পানির হিস্যার বিষয় এসব বিষয় সার্ক সামিটে আলোচনা হোক, ভারত তা চায় না। ইদানিং সার্কে চীনের পর্যবেক্ষকের মর্যাদার বিষয়টিও ভারত বিরোধিতা করেছে, মুলত তার 'বিগ-ব্রাদার' মনোভাব কার্কর রাখার জন্য আর এসবই সম্ভাবনাময় সার্কেও বিকাশের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।

এত কিছুর পরও একটি কার্যকরী সংস্থা হিসেবে সার্ক বিকশিত হবে- প্রত্যাশা সবার; যেখানে আরো উন্নয়ন, পিপল-টু-পিপল যোগাযোগ, শিক্ষা মানবসম্পদের বিকাশ এবং অঞ্চলে দক্ষিণ এশীয় নাগরিক হিসেবে সব মানুষ এক নতুন সম্ভাবনার মধ্যে যুক্ত হবে মনে রাখতে হবে, দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের ২৩ দশমিক শতাংশ মানুষের আবাদভুমি, যেখানে ৪০ শতাংশ মানুষ দৈনিক রোজগার করে দশমিক ২৫ মার্কিন ডলারের নিচে এই বিপুল জনগোষ্ঠী এবং সম্ভাবনা; উভয়েরই রয়েছে গুরুত্ব তাই গভীরভাবে ভাবতে হবে সার্কের বিকাশ নিয়ে, যা সারা বিশ্বকে প্রভাবিত করতে সক্ষম অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নত হলে তার প্রভাব পড়বে সারা বিশ্বে, এখানে সমঝোতা শান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি হলে তার প্রভাব পড়বে অন্য অঞ্চলে আমরা চাই, আন্তরাষ্ট্রীয় কোন্দল থেকে বেরিয়ে সার্ক প্রকৃতই বিশ্বমাঝে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করুক, অঞ্চলের মানুষ দক্ষিণ এশীয় নাগরিক" হিসেবে নিজেকে বিশ্বমাঝে পরিচিত করুক।

[দৈনিক বণিক বার্তা, তারিখ: ৩০/১২/২০১৬ইং]

সার্ক উন্নয়ন ব্যাংক: আল্ঞদেশীয় উন্নয়নে বাধা দূর করবে

শুরু করতে চাই অমর্ত্য সেনের একটি লেখা দিয়ে তার ভারত উন্নয়ন বঞ্চনা" গ্রন্থে বলেছেন, “উন্নয়ন মানে কেবল জিডিপির বৃদ্ধি নয়, শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত উন্নতি বা সামাজিক প্রগতির মতো কিছু পরিবর্তন দিয়েও তাকে সম্যকভাবে ধরা যাবে না। শেষ বিচারে, মানুষ যে ধরনের জীবনযাত্রাকে যথার্থ মূল্য দেয়, তেমন জীবনযাপনের স্বাধীনতা সক্ষমতার প্রসারই হলো প্রকৃত উন্নয়ন। হয়তো মতে হতে পারে, শিরোনামের সঙ্গে এর যোগাযোগ কী? সত্যিই একটা যোগাযোগ রয়েছে, সার্কভুক্ত দেশগুলোয় যদি মিষ্টার সেনের ভাষায়, “শেষ বিচারে, মানুষ যে ধরনের জীবনযাত্রাকে যথার্থ মূল্য দেয়, তেমন জীবনযাপনের স্বাধীনতা সক্ষমতার প্রসারই হলো প্রকৃত উন্নয়ন - তা-ই করতে চাই; তাহলে অর্থ এবং পরিকল্পনা দুই-ই প্রয়োজন

যেকোনো উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য বিষয়গুলোর মধ্যে 'অর্থ হচ্ছে অন্যতম নিয়ে নানামুখী বিতর্ক থাকতে পারে, তবে অর্থ ছাড়া কোনো উন্নয়নই সম্ভব নয়। বলা যায়, মানবসম্পদ এবং সাংগঠনিক দক্ষতাও উন্নয়নের জন্য বিকল্পহীন নিয়ামক তবে ভুললে চলবে না, এসবের জন্যও অর্থ প্রয়োজন আধুনিকতার বড় ব্যর্থতা হচ্ছে, তা অতি মাত্রায় অর্থের ওপর নির্ভরশীলতা “দরিদ্বতা থেকে মুক্তি এবং উন্নত জীবনযাপন' বিষয় দুটি বর্তমানে ব্যক্তি এবং সমাজজীবনে মুখ্য বিষয় আর এসব থেকে মুক্তির জন্যই নানা ধরনের উদ্ভাবনী লক্ষ করা যায়; যেমন আঞ্চলিক সহযোগিত কোনো রাষ্ট্র এখন আর এককভাবে এসব সমস্যার মোকাবেলা করতে পারে না; সে কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে গঠিত হয়েছে আঞ্চলিক ফোরাম, যেমন- ইইউ সার্ক। আজকের প্রতিপাদ্য বিষয় সার্ক এবং টেকসই উন্নয়নের জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা

শুরুতে সাতটি দেশ নিয়ে সার্ক গঠিত হলেও বর্তমানে তার মোট সদস্য আটটি দেশ; এবং বলা যায়, সমসাংস্কৃতিক এবং ভৌগলিক এঁতিহ্যের পরিচয়কে ভিত্তি করে এর গঠন। প্রায় চার দশক এর বয়স, তবে সে তুলনায় তার অর্জন প্রশ্নসাপেক্ষ একক আঞ্চলিক সহযোগিতা সংগঠন হিসেবে সার্ক একনো যা করতে পারেনি কিন্তু করা জরুরি ছিল, তার মধ্যে রয়েছে “একক মুদ্রা এবং সার্ক ব্যাংক সার্ক পার্লামেন্ট, প্রতিষ্ঠা করা কিন্তু মন্দের ভালো, এরই মধ্যে সার্ক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে। বছর দুয়েক আছে, ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সার্ক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। উদ্দেশ্য, দক্ষিণ এশিয়ার টেকসই উন্নয়ন এবং বিশ্বব্যাংক এবং এডিবির খণ শর্তের ওপর নির্ভরশীলতা হাস করা বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আসে সার্ক গ্রুপ অব এমিনেন্ট পারস্স (জিইপি) কর্তৃক প্রদত্ত প্রস্তাবনায়, যা ১৯৯৮ সালে পেশ

করা হয়। এর নাম প্রস্তাবনা ছিল “ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ফর সাউথ এশিয়া'। এখন বলা যায়, বিষয়টি আলোচনার টেবিলে এসেছে; যদিও বেশ দেরিতে

বিষয়টির গুরুত্ব বোঝা যায় যখন দেখি, বিশ্বব্যাংক ২০১৪ সালে তার প্রণীত রিপোর্ট রেডিউসিং পোভার্টি বাই ক্লোজিং সাউথ এশিয়ানস ইনক্রাস্ট্রাকচার গ্যাপ'-এ বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করেছে। রিপোর্টে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় ৩৫০ ট্রিলিয়ন ইউএস ডলারের ঘাটতি রয়েছে আঞ্চলিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে, যা ব্যয় করা দরকার যোগাযোগ (এক-তৃতীয়াংশ), বিদ্যুৎ (এক-তৃতীয়াংশ) এবং অন্যান্য খাতে (পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, সলিড ওয়েষ্ট ম্যানেজমেন্ট , টেলিকমিউনিকেশন সেচ ব্যবস্থা উন্নয়নে)। অর্থাৎ অর্থের প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদে টেকসই উন্নয়নের জন্য আর অর্থ আমাদের কাছে নেই; যার জন্য হয়তো আবার বিশ্বব্যাংক, আইএমএফের কাছে ধরনা দিতে হবে কিন্তু আমাদের হাতে যে বিকল্প রয়েছে, সেটির দিকে সার্কের কর্তাব্যক্তিদের এখনই নজর দেয়া দরকার; তাহলো সাক্‌ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা

বিষয়টি নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া দরকার দক্ষিণ এশিয়ায় যেখানে পুরো পৃথিবীর প্রায় ২৪ ভাগ দরকার নিজস্ব আর্থিক প্রতিষ্ঠান, যেখানে আন্তঃসার্ক সহযোগিতা উন্নয়ন হবে বাধামুক্ত। তাছাড়া আর্থিক- কুটনীতির মাধ্যমে দরিদ্র উন্নয়নশীল দেশগুলো বড্ড বেশি শোষিত হয় নানামুখী শর্তের মাধ্যমে, তা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। এমনকি “সার্ক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক' প্রতিষ্ঠিত হলে দেশগুলো মাথা উঁচু করে দীড়াতে পারবে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিমন্ডলে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সার্ক ডেভেলপমেন্ট ফান্ড গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়, প্রাথমিক তহবিল ধরা হয় ৩৫০ মিলিয়ন ইউএস ডলার, যা ব্যয় করা হবে দক্ষিণ এশিয়ার এনার্জি, যোগাযোগ, টেলিকমিউনিকেশন পরিবেশ উন্নয়নে

প্রশ্ন হতে পারে, কেন সার্ক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক প্রয়োজন? এক্ষেত্রে আন্দ্রে গুন্ডার ফ্াংকের শরণাপন্ন হতে হয়, তার সেন্টার-পেরিফেরি তত্বে কীভাবে এসব পুঁজিবাদী প্রতিষ্ঠান (বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ) তৃতীয় বিশ্ব থেকে উদ্ৃত্ত প্রথম বিশ্বে পাচার করে, তা বিশ্লেষণ করেছেন। এবং এটা প্রমাণিত, এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক আইএমএফ 'নাটের গুরুর' ভূমিকা পালন করে চলেছে। সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশের পদ্মা সেতুর খণ নিষে বিশ্বব্যাংক যা করেছে, তা এর নিকৃষ্টতম উদাহরণ (তবে আমরা আশির দশকের পিএল-৪৮০-এর কথা এখনো ভুলতে পারিনি)। তার বিপরীতে, এক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে জবাব দিয়েছে, সেটা অন্তত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর, এমনকি সার্কভুক্ত দেশগুলোর কাছেও নজির হয়ে থাকবে যাকে কবি সুকান্তের ভাষায় বলা যায়,

পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়; জ্বলে-পুড়ে মরে ছারখার তবু মাথা নোয়াবার নয়" নিঃসন্দেহে, বাংলাদেশ মাথা নোয়ায়নি। আর এখানেই নিহিত রয়েছে নিজস্ব ব্যাংক প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা মাথা যদি না নোয়াতে চাই, তাহলে নিজদ্ব ব্যাংক প্রয়োজন, যা আমাদের মর্ষাদাশীল করবে এটা সত্য, এরই মধ্যে বিকস ব্যাংক একটা উদাহরণ তৈরি করেছে, কিছুটা স্বপ্নও বৈকি; যা বিশ্বব্যাংককে চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করেছে। অতি অবশ্যই আর্থিক কুটনীতির ওপর আমাদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তার জন্য যে বিশাল অংকের মূলধন সার্ক ব্যাংক প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন, সেটাই বড় ব্যালে্জ। নানা বিকল্প আমাদের হাতে আছে, এর জন্য ব্যাংকের এশীয় শিল্পপতিরা এগিয়ে আসতে পারেন আমরা চাই আমাদের অঞ্চলের দেশগুলো থেকে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফের মতো প্রতিষ্ঠান দ্রুত বিদায় নিক; কিন্তু তার আগে প্রয়োজন সার্ক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা, যা আমাদের এর অঞ্চলের মানুষকে চ্যালেঞ্জ করতে শেখাবে, যা ২০০ কোটি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে বিনিয়োগ করবে; আমরা আমাদের মুনাফা এসব দেশের মধ্যেই মানবকল্যাণে ব্যয় করতে চাই পৃথিবীর সবদেশের জন্য মানবসম্পদের মূল ভান্ডার দক্ষিণ এশিয়া চীন। তাই সটিক পরিকল্পনায় মানবসম্পদ গঠন করতে পারলে পুরো পৃথিবীর অর্থনীতির সিংহভাগ দক্ষিণ এশিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে এখন প্রয়োজন সব দ্বিধা ভুলে সার্ক দেশগুলোর মধ্যে ন্যুনতম মতৈক্যের ভিত্তিতে দ্রুতই “সার্ক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক'-এর প্রাথমিক অনুমোদন এবং একক মুদ্রার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা সার্ক মুদ্রা নিশ্চিয়ই ডলারকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবে এবং ডলার ক্রয়ে যে বিপুল অর্থ গচ্চা দিতে হয়, যা আমাদের দরিদ্রতারও কারণ বটে, সেখানে দর কষাকষি করতে পারবে ইউরোর অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য সফল অভিজ্ঞতা হতে পারে আমরা দক্ষিন এশিয়ার নাগরিক হতে যেমন আগ্রহী, তেমনি বিশ্ব মাঝে আমাদের সাংস্কৃতিক আলো ছড়িয়ে দিতে চাই যেটি শুরু হয়েছিল প্রথমবার সার্ক প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে; তেমনি দ্বিতীয়বার তা কার্যকরী হবে “অর্থনীতি-কুটনীতি' নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে। একজন বাংলাদেশী এবং সার্ক নাগরিক হিসেবে স্বপ্ন দেখা নিশ্চিয়ই অতি স্বপ্ন নয়। আমি আলোচনাটি শেষ করব অমর্ত্য সেনের একটি স্বগোক্তি দিয়ে, যেখানে তিনি বলেছেন, “আমি সারা জীবন ক্ষমতাসীনদের উপদেশ দেয়া থেকে নিজেকে নিবৃত রেখেছি কখনো কোনো সরকারকে আমি মন্ত্রণা দিইনি আমার বক্তব্য জনসাধারণের দরবারে আলোচনার জন্য রেখেছি'। উপরোক্ত যুক্তিগুলো যদি পাঠকের মনে কৌতুহল সঞ্চার করে থাকে, তবে আরো বিস্তারিতভাবে এগুলো আলোচনা করা যাবে [দৈনিক বণিক বার্তা, তারিখ: ১৭/০৩/২০১৭ইত]

মালছবীপ সার্ক সম্মেলন দক্ষিণ এশীয় মনক্ষতা

অনেকদিন থেকেই সার্ক এক ধরণের নির্লিপ্ত সচেতন মহলে দক্ষিণ এশীয় আথগ্লিক কাঠামো হিসেবে এর কার্যকারিতা এমনকি ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল মনে হয়েছিল যে স্বপ্ন নিয়ে এর যাত্রা তার হয়ত মৃত্যুই হতে চলেছে অথবা হয়ত সার্ক একটা কাগুজে প্রাণী হবে, যা গর্জন করলেও কোনো কিছুই বর্ষণ করতে পারবে না। অন্তত সে ধারণা থেকে আমাদের মুক্তি দিয়েছে “মালদ্বীপ আদ্দু সার্ক সম্মেলন:

এবারের সার্ক সম্মেলন “সম্ভবত সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশার কাছাকাছি যেতে পেরেছে যেখানে একটি “কাঠামো হিসেবে সার্কের যে চরিত্র পাওয়া দরকার সেদিকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। প্রথম যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল তাহল সম্মেলনের টাইটেল- থিম, 43011017)5 73110595| দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হওয়া দরকার, প্রয়োজন “সম-মন এবং সম-্বার্থ' তৈরি হওয়া যাকে আমরা “দক্ষিণ এশীয় মনস্কতা' বলত পারি; যা বেশ জটিলও বৈকি। তবু কৌশল অবলম্বন করতে হবে ধরনের আঞ্চলিক মনক্কতা তৈরির জন্য; যা ফুটে উঠেছে থিম সিলেকশনে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের মধ্যে যত বেশি যোগাযোগ তৈরি হবে ততটাই সমসম্পর্ক তৈরি হবে, অবসান হবে ভুল বুঝাবুঝির সীমানা থাকলেও মানুষগ্ডলোর পারস্পরিক সম্পর্কই “সীমানাবতির্ভত' এক সম্পর্কের বাধন তৈরি করবে যেখানে রবীন্দ্রনাথের ভাষায় “দেবে আর নেবে' মিলিবে মিলাবে' হবে কার্যকর আমাদের সামনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জ্বলন্ত উদাহরণ হিসাবে বর্তমান।

এবারের সম্মেলনে মোট একুশটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। বিষয়টি বুঝতে গুরুত্ৃপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো এখানে দেয়া হল:

দেশগুলোর মধ্যে শুল্ক সমস্যা সমাধানের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের নিমিত্তে আন্তরান্ত্রীয় সংশ্শিষ্ট মন্ত্রীদের মাঝে কার্যকরী উদ্যোগ নেয়া। আঞ্চলিক দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অর্থপ্রবাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী পর্যায়ে নতুন প্রস্তাবনা তৈরি করা

আঞ্ঞলিক রেলওয়ে চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা সেই সঙ্গে দ্রুত বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া- নেপালের মধ্যে কনটেইনার ট্রেন' চালু করার ব্যবস্থা নেয়া।

ভারত মহাসাগরে কার্গো প্যাসেঞ্জার ফেরি কার্ণো চালুর জন্য সেক্রেটারি জেনারেলকে প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করতে বলা হয়েছে। এর জন্য ২০১১ সালে ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ করতে বলা হয়েছে।

জলবায়ু বিষয়ে “থিম্পু ঘোষণা" বাস্তবায়নের তাগিদ দেয়া হয়েছে “আঞ্চলিক শক্তি বিনিময় সার্ক ইলেকট্রিসিটি মার্কেট" এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ইন্টার গভর্নমেন্টাল ফ্রেমওয়ার্ক ফর এনার্জি কোঅপারেশন" গঠন করা হয়েছে। “সার্ক ফুড ব্যাংক' যাতে কার্যকরী হতে পারে তার জন্য মন্ত্রীপর্যায়ে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ সন্ত্রাসবাদ নিমল করার লক্ষ্যে জাতিসংঘ কনভেনশনসহ সার্ক কনভেন কার্যকরী করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া। নারীর ক্ষমতায়ন জেন্ডার সমতার লক্ষ্যে একটি আঞ্চলিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাতে এমডিজি এসডিজি কার্যকরী করা যায়। নারী পাচার প্রতিরোধ করার জন্য বর্তমান কনভেনশনের আরও উন্নীতকরণ যাতে “পতিতা' হিসেবে পাচারকৃত নারীর ব্যবহার বন্ধ করা যায়; আগামী সামিটে যেন গৃহীত হতে পারে সবদেশের শিক্ষাগত ডিগ্রিকে সমমর্যাদা প্রদান করার জন্য দেশগ্ডলোর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ অঞ্চলের বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং থিংক-ট্যাংদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক স্থাপন করা “সাউথ এশিয় ফোরাম' কার্যকরী করা সার্ক সেক্রেটারিয়েট আঞ্চলিক কেন্দ্রপুলোকে আরও কার্যকরী করা ২০১২ সালের আগামী সম্মেলনের আগেই সার্কের অবজারভারদের' সম্পর্ক কি হবে, নির্ধারণ করা “সার্ক মিডিয়া ডে' নির্ধারণের জন্য আঞ্চলিক মিডিয়া সম্মেলন করা (তথ্য সূত্র : ওয়েবসাইট, “মালদ্বীপ সার্ক সম্মেলন?)।

বর্ণিত বিষয়গুলোর দিকে তাকালে আমরা বুঝতে পারব এবারের সম্মেলন এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে যা কার্করী হতে আমরা এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন দেখতে পারব একাধিক দেশের মানুষের মাঝে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হতে সর্বাগে প্রয়োজন যোগাযোগ

খুব প্রাথমিকভাবে হলেও বাংলাদেশ, ভারত এবং নেপালের মধ্যে কনটে ইনার ট্রেন চালু করার উদ্যোগ যথেষ্ট ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং এসব দেশের মধ্যে পণ্যে আদান প্রদান হবে নতুন দিগন্তের সূচনা তাই নয়, সাধারণ মানুষ এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে “সার্ক ট্রেন' চালুর সুবিধা বুঝতে পারবে ভারত মহাসাগরে নতুন কার্ো প্যাসেঞ্জার ফেরি চালু করার জন্য যে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা যদি দ্রুত কার্যকরী করা যায় তাহলে আঞ্চলিক ফোরাম হিসেবে সার্ক বিশ্বদরবারে নিজের যোগ্যতা প্রমাণে একধাপ এগিয়ে যাবে। সার্ক অঞ্চলে “কমন ইলেকট্রিসিটি গ্রিড তৈরী খুব জরুরি তার জন্য এবার নেয়া হয়েছে নতুন সিদ্ধান্ত, যা এসব দেশের উন্নয়নে অভূতপূর্ব ভুমিকা রাখবে; বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবেলায় করবে সহায়তা টেকসই উন্নয়নের জন্য এর বিকল্প নেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যদি সম্ভাবনাময় আগামীর স্বপ্ন দেখাতে হয় তাহলে এসবের বাস্তবায়ন এখনই জরুরি এছাড়া “সার্ক ফুড ব্যাংক'-এর যে প্রস্তাবনা গৃহীত হয়েছে তা প্রাকৃতিক দুর্যোগ খাদ্য-অধিকার নিশ্চিতকরণে অঞ্চলের মানুষদের নতুনভাবে সাহস জোগাবে। সন্ত্রাসবাদ নির্মূল, নারীর ক্ষমতায়ন নারী পাচার প্রতিরোধ বিষয়গুলোতে নেয়া সিদ্ধান্ত কার্যকরী করতে হলে অঞ্চলে জেন্ডার বৈষম্য হাস পাবে আর বৃদ্ধি পাবে নারীর

মর্ধাদা। সার্ক দেশগুলোর মধ্যে একটা বড় সমস্যা হল, “শিক্ষা-ডিগ্রি'-₹তে সমতার অভাব; যা এক দেশের শিক্ষিত নাগরিকের অন্য দেশে কাজের জন্য বাধা এক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্দ হল সবদেশের শিক্ষা সনদ যাতে সমমর্ধাদার হয় তার জন্য সব দেশের শিক্ষা আইন পরিবর্তনসহ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা বিষয়টি খুবই জরুরি কারণ “সার্ক সিটিজেনশিপ" কার্যকরী করতে হলে এটা যত তাড়াতাড়ি কার্যকরী করা যায় ততই মঙ্গল। সার্ক দেশগুলোর মধ্যে মিডিয়া সম্প্রচার নিয়ে বেশ জটিলতা রয়েছে। যেমন ভারতে বাংলাদেশের কোনো টিভি চ্যানেল সম্প্রচার করা হয় না। এক্ষেত্রে রয়েছে দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতার অভাব। এসব বিষয়ে একমত্য স্থাপন করতে “সার্ক মিডিয়া-ডে' পালনের জন্য আঞ্চলিক সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। হয়ত এর মাধ্যমে আমরা এমন তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করতে পারব, যা আমাদের দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।

এসবই আমাদের বর্তমান সার্ক সম্মেলনের প্রাপ্তি। আমরা আশা করি, সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন হলে আমরা এমন এক দক্ষিণ এশিয়া পাব যেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নতুনভাবে স্বগ্ন দেখতে পারবে; পৃথিবীর সব থেকে দারিদ্পীড়িত, অধিক জনসংখ্যার অঞ্চল “দক্ষিণ এশিয়া* সম্মিলিত শক্তি দ্বারাই সম্ভব সব সমস্যার সমাধান করা নতুন স্বপ্নের বাস্তবায়নে সার্ক ভূমিকা রাখবে, আমরা হব “দক্ষিণ এশীয় নাগরিক", মাথা তুলে দাড়াবো পৃথিবীর বুকে সে প্রত্যাশায় রইলাম। জয় হোক “দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা?

[দৈনিক ডেসটিনি, তারিখ: ২৩/১১/২০১১ইত]

বাংলাদেশের দেশের পানি কূটনীতি সংকট

বাংলাদেশ ভারত পানি সমস্যা নিয়ে গত দুই বছর ধরে একটি একাডেমিক গবেষণায় নিয়োজিত থাকার সুবাদে এবিষয়ক যথেষ্ট তথ্য উপাত্ত দেখা জানার সুযোগ হয়েছে। দেখার সুযোগ হয়েছে অঞ্চলের সব কটি পানি চুক্তিও। এবিষয়ক ভারতের পানি কুটনীতি, চীনের পানি-ভাবনা এমনকি পাকিস্তানের সিন্ধু নদীর পানি ভাগাভাগি মডেল, নেপালের মহাকালী নদীর পানি ভাগাভাগি চুক্তি বিশেষণের সুযোগ হয়েছে। যেটি আমি এখনও বুঝতে পারিনি তাহলো “আমার নিজের দেশের পানি কুটনীতি কী? কোন স্বাধীন দেশ তার সমস্যা সঙ্কুল বিষয়গুলো নিয়ে একমত্যের ভিত্তিতে একটি স্পষ্ট অবস্থান নেবে এটাই স্বাভাবিক; কিন্তু দু:খজনক হলেও সত্য ভারতের সঙ্গে ক্রম সম্প্রসারিত নদীর পানির ন্যাধ্য হিস্যা নিয়ে আমরা এমন কোনো “মডেল কিংবা কাঠামোগত হিসাব' ভারতের কাছে কিংবা বিশ্ব দরবারে পেশ করতে পারিনি, যার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে নদীর পানির হিস্যার ক্ষেত্রে তার কুটনীতির ওপর নির্ভর করতে পারে সব সমস্যার সমাধান করতে হবে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে; এর বাইরে কিছুই বলা যাবে না। যদি সে বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্বনও হয়(2) তবুও মুজিব-ইন্দিরা চুক্তির বাইরে কিছুই করা যাবে না; যদিও গত চলিশ বছরে কত জল যে কোথায় গড়িয়েছে তার হিসাব কারও কাছে নেই তার ওপর আছে গৌদের ওপর বিষফোড়া আমাদের বর্তমান অতীত সরকারপগ্তলো ভারতের সঙ্গে কি চুক্তি করে থাকে তা সাধারণ জনগণ তো পড়ে মরুক পার্লামেন্টই জানে না। এবারো কি চুক্তি হলো ভারত বাংলাদেশের মধ্যে জনগণ স্পষ্ট কিছুই জানে না আমরা যা জানি, তিস্তা-চুক্তি ভেস্তে গেল, আর এখন দেখতে পাচ্ছি টিপাইমুখে ভারত বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য ড্যাম নির্মাণের সব আয়োজনই শেষ করেছে।

তার ওপর আছে ভারতের 'আক্ঞনদী সংযোগ প্রকল্প'। ২০০২ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে ২০১৬ সালের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে হবে এটি ভারতের ইতিহাসের সব থেকে ব্যয়বহুল প্রকল্প; যার ব্যয় ধরা হয়েছে হাজার ৬০০ বিলিয়ন রুপি পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ কেবল মরুভূমি নয়, পরিত্যক্ত অঞ্চলে পরিণত হবে প্রস্তাব প্রথম পেশ করে স্যার আর্থার কটন ১৮৩৯ সালে তারপর সে ধারনা নীরবে নির্ভূতে চর্টিত হতে থাকে; কিন্তু হঠাৎ ২০০২ সালে স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে সে প্রস্তাব এপিজে আবুল কালাম উত্থাপন করলে প্রয়োজন হয়ে পড়ে বাস্তবায়নের; কিন্তু তারা প্রতিবেশী রাষ্ট্রটির কোনো ভালো- মন্দ চিন্তা করেনি। এমনকি আন্তর্জাতিক নদী আইন ভারত আমলে নেয়নি প্রশ্ন হলো, সে ক্ষেত্রে আমরা কি করেছি? বাংলাদেশ কি তখন কিংবা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ করেছে আমরা কেবল আছি

ফারাক্কা কিংবা তিস্তা অথবা টিপাইমুখ নিয়ে; কিন্তু ভারত যদি আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে তাহলে এমনিতেই বর্তমান নদীর পানির সমস্যা নিয়ে আলোচনার আর প্রয়োজন হবে না। এখানেও বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়েছে ভারতের “বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে , আন্তর্জাতিক নদী আইনের কথা বলতে আমরা কি তখন চীনকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছিলাম? সেই একই সমস্যা কিসের ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রতিবাদ করবে(?) পানি কুটনীতিবিষয়ক কোনো মডেলই তার নেই।

মাঝে মাঝে আমাদেও “না জানার' কারণে বিভ্রান্তিমুলক তথ্যও বিষয়টিকে আরও জটিল করে তোলে যেমন আজকাল প্রায়শই পাকিস্তান-ভারত যেভাবে সিন্ধুর পানি ভাগাভাগি করেছে সে মডেল অনুসরণের কথা বলা হয়ে থাকে। কিন্তু যেটি জানে না তাহলো, সিন্ধু নদীর জল বন্টন ব্যবস্থায় মধ্যস্থতা করেছিল বিশ্ব ব্যাংক' অর্থাৎ তৃতীয় পক্ষ কিন্তু বর্তমানে ভারত কোনো ক্রমেই তৃতীয় কারও উপস্থিতি মানতে রাজি নয়। আর তখন সে চুক্তিতে ভারত সই করতে বাধ্য হয়েছিল, কারণ বিশ্ব ব্যাংক ভারতের ওপর চাপ প্রয়োগ করেছিল পরে বিশ্ব ব্যাংকও তার 'নেগোসিয়েশন স্ট্র্যাটেজি' পরিবর্তন করেছে।

এখন যে বিষয়টি দেখা দরকার তাহলো জয়েন্ট রিভার কমিশন" গ্যাপ্রোচ দু'দেশের পানি সমস্যার সমাধানে কতটা সফল? পৃথিবীর কতটা দেশ আমাদের মডেল অনুসরণ করে থাকে? কোন অভিজ্ঞতা ছাড়া বলা যায়, বিগত চল্লিশ বছরে কেবল মাত্র বৈঠক করা ছাড়া “তেমন বলার মতো" কিছুই আমরা পদ্ধতিতে লাভ করতে পারিনি তাছাড়া আছে অন্য সমস্যা, গঙ্গার জন্য ফারাক্কা চুক্তি, তিস্তার জন্য আর এক চুক্তি, বরাক (টিপাই)-এর জন্য আর এক চুক্তি; এসব কি আদৌ সম্ভব? পঞ্চাশের অধিক নদী আছে দুই দেশের মধ্যে; তাহলে কতটা চুক্তি করা সম্ভব? নাকি এমন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার যাতে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা বেসিনের পানি ব্যবস্থাপনার জন্য বহুদেশীয় কমিশন গঠন করা উচিত। পূর্ব এশিয়াতে “মেকং রিভার কমিশন' যেভাবে কাজ করে থাকে এখানে সে মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে তা হতে পারে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা বেসিন পানি ব্যবস্থাপনা কমিশন

কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হলো, আমাদেও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নদীর পানি বিষয়ে কণ্ঠস্বর এতই ঘ্রিয়মাণ যা অন্য দেশ কেন খোদ ভারতই শুনতে পায় না। হ্যা, এটা ঠিক এখন ভারতকে এই প্রস্তাবটি দেওয়া দরকার কারণ চীন ব্রহ্মপুত্রের ওপর যে ড্যাম তৈরি করছে তাতে ভারত বাংলাদেশকে “পানি কুটনীতির ক্ষেত্রে' কাছে পেতে চাইবে পরের জন্য গর্ত করলে কেমন লাগে ভারত এখন কিছুটা হলেও বুঝতে পারছে তবে মনে রাখতে হবে, চীনের 'জিও-পলিটিক্যাল স্ট্রাটেজি'তে ভারতই তার এতিহাসিক শক্র। তারপর ইদানীং বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে মৈত্রের নামে যে মাখামাখি করছে বিশেষ করে সেভেন সিস্টার-এ ট্রানজিট সুবিধা দেওয়াতে

নিশ্চয়ই চীন খুশি নয়। এমনকি ভারত মহাসাগরে চীনের নৌবহর এবং দুরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি এসবও ভারতের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এখন বাংলাদেশকে সন্তর্পণে পা ফেলতে হবে শেষ করবো অস্ট্রেলিয়ান গবেষক, ম্যাক গ্রিগরের একটি উক্তি দিয়ে, “বাংলাদেশ নদীর পানি নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগেই পরাজিত হয়; যদিও তারই পানি পাওয়ার ন্যায্য অধিকার রয়েছে। কারণ কূটনৈতিক দক্ষতার অভাব আশা করি থেকে বাংলাদেশ মুক্ত হবে।

[দৈনিক ডেসটিনি, তারিখ: ১৩/০১/২০১২ইথ

তিস্তা কাহিনী: কি ভাবছে পশ্চিমবঙ্গ

'রাজা যায় রাজা আসে... কিন্তু ভারতবর্ষের মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় না' - ভারতবর্ষ নিয়ে মন্তব্যটি করেছিলেন ফরাসি পরিব্রাজক বার্নিয়ের

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সফর অনেকটা রাজায়-রাজায় বন্ধুত্বের প্রতিফলনের মতো যেখানে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনের তেমন কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। অন্তত সব বিশ্লেষণের নির্যাস এটুকু প্রাপ্তি অনেকটা যেন দূর থেকে দেখা জাহাজের মাদ্্রলের মতো, যেখানে জাহাজটা ঠিক চোখে পড়ে না। তবে বিশ্লেষণ বাংলাদেশনির্ভর কিন্তু পশ্চিমবঙ্গবাসীর ভাবনা কি? বিশেষ করে তিস্তার পানিবন্টন চুক্তি না করতে পারা নিয়ে যে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গ কি ভাবছে? মূলত নিবন্ধে সেদিকে দৃষ্টিপাত করা হয়েছে। কারণ মমতা ব্যানার্জি এবং পশ্চিমবঙ্গের মানুষের অনুভূতিকে বাদ দিয়ে চুক্তি যে সম্ভব নয় তা আজ দিবালোকের মতো স্পষ্ট সেপ্টেম্বর, ২০১১-তে দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা শিরোনাম করেছে- 'রাজ্যের স্বার্থরক্ষার প্রশ্নে অনড় থেকে মোক্ষম চাল মুখ্যমন্ত্রীর সংবাদটিতে বলা হয়েছে, “... তার মেমতার) আপত্তিতেই শেষ মুহূর্তে আটকে গেছে বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা পানিবন্টন চুক্তি। এবং এর ফলে রাজ্যের স্বার্থে একমাত্র মুখপাত্র হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠায় আরো একধাপ এগিয়ে গেলেন মমতা বন্দোপাধ্যায় ... রাজ্যের স্বার্থে রুখে দাঁড়িয়ে তিনি চুক্তি আটকে দিয়েছেন। ... এবং যে চুক্তি রাজ্যের স্বার্থে আঘাত করে তিনি তার বিরোধিতা করবেনই ... বরং মমতা আপত্তি তুলে চুক্তি স্থগিত করাতে পেরে এটাই দেখানোর সুযোগ পেলেন যে, রাজ্যবাসীর স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করারও যোগ্য ব্যক্তি তিনি'।

বিগত বাম-জমানার সেচমন্ত্রী সুভাষ লক্ষর জানিয়েছে- “এ রাজ্যের প্রজেব্-কম্যান্ড এরিয়ার ২৫ ভাগের বেশি জল বাংলাদেশকে দিতে তাদের (বাম) সরকারের আপত্তি ছিল"। পত্রিকাটি প্রশ্ন তুলেছে, মমতাকে তিস্তা চুক্তির খসড়া দেখানো হয়নি কেন? এবং যুক্তরাষ্্রীয় কাঠামোয় রাজ্য সরকারের আপত্তি থাকলে কোনো চুক্তি করা যাবে না'। তবে মমতা শুঙ্ক মৌসুমে ২৫ হাজার কিউসেক হারে পানি দিতে রাজি হয়েছিলেন বলে পত্রিকাটি জানিয়েছেন। পত্রিকাটি এও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে মমতা রাজি হতে পারেন, তবে ২৫ হাজার কিউসেকের বেশি পানি দেবেন না। পত্রিকাটি অন্যত্র বলছে, “মাঠে শুকিয়ে যাচ্ছে ধান, বর্ধাতেও তিস্তা ব্যারেজের জল চাইছেন চাষিরা এবং তথ্য দিয়েছে, “বাঁচল উত্তরবঙ্গ শিরোনামে প্রথমে জলবিদ্যুৎ বর্তমানে ব্যারাজ পয়েন্টে ৩টি ইউনিটে ৬৭.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য দরকার ৩৩০ কিউসেক হারে পানি;

কিন্তু মেলে না ১৫০ কিউসেকের বেশি এমনকি একটি চলে তাও জানুয়ারি-এপ্রিলে অর্ধেক দিনই উৎপাদন থাকে বন্ধ বর্তমান চুক্তি হলে, উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে বলেছে। সেচ প্রকল্পে বোরো মৌসুমে পানি মেলে মাত্র ২৫ হাজার হেক্টুরে যেখানে জমির পরিমাণ ৬০ হাজার হেক্টর পানীয়জল নিয়ে যে তথ্য দিয়েছে তাহলো- চুক্তি হলে শুক্ক মৌসুমে ক্যানালে জল কমে যেত, ব্যাহত হতো শিলিগুড়িসহ গজলডোবা প্রকল্প ভুক্তভোগী চাষিরা বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করেছেন" শিরোনামই বলছে, চুক্তি না হওয়ায় তারা কত খশি। এরকম বহু পরিসংখ্যানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তিস্তা চুক্তি, যার মুল চাবি পশ্চিমবঙ্গের হাতে তাই চুক্তি যদিও হবে ভারতের সঙ্গে কিন্তু তার আগে দরকার পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে এমন একটা সম্পর্ক তৈরি করা, যাতে তারা অনুভব করে বাংলাদেশের মানুষের প্রয়োজনীয়তা এর জন্য যত না দরকার রাজায়-রাজায় সম্পর্ক তার চেয়ে বেশি দরকার দুপারের মানুষের মধ্যে ভাবের আদান-প্রদান, যোগাযোগ, বন্ধুত্ব কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ভারতে বাংলাদেশের কোনো টিভি চ্যানেলই এখনো দেখা যায় না। এটুকু হলেও তারা বাংলাদেশের মানুষের অনুভব, চাহিদা, স্বপ্ন এগুলো জানতে পারতো আর এখনই প্রয়োজন বন্ধন তৈরির উদ্যোগ নেয়া

তারা নিউজ চ্যানেলের আলোচনায় বলা হয়েছে, ভারত বিপাকে ফেলেছে হাসিনা সরকারকে আকাশচুম্বী প্রত্যাশা হঠাৎ “ঢাকা*কে নিরাশায় ঢেকে দিয়েছে তবুও মমতার সমর্থনে তারা যাই ঘটুক, এখন মমতাই আসল নায়ক পশ্চিমবঙ্গবাসীদের কাছে; এমনকি তিনি এক্ষেত্রে নাকি বামদের চেয়েও সফল তবে কি 'বাংলাদেশ-বিরোধিতা' এখন ভারতেও সফল রাজনৈতিক কৌশল বলে বিবেচিত? যা ভারত বিএনপি'র বিরুদ্ধে সব সময় করে থাকে যদি সমীকরণটি তাই হয়; তাহলে আমাদের জন্য যে কোনো দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অর্জন বেশ জটিল হয়ে গেল সন্দেহ নেই।

এখন আমাদের করণীয় কি? এমন হোমওয়ার্কের দরকার; যাতে নদীর পানি ভাগাভাগীর একটা ফেমওয়ার্কের বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গকে বুঝান যায়। এর জন্য প্রয়োজন, বাংলাদেশ পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে শিক্ষা সফর, যৌথ সেমিনার, সিভিল সোসাইটির মধ্যে যোগাযোগ; যাতে পশ্চিমবঙ্গের মধ্যেই বাংলাদেশের ন্যাধ্য হিস্যা নিয়ে একদল মানুষ কথা বলে এটুকু না করতে পারলে ভবিষ্যতে রাজায়-রাজায় বন্ধুত্ব কোনো ফল যে বয়ে আনবে না; এটুকু জোরগলায় বলা যায়।

[দৈনিক ডেসটিনি, তারিখ: ১৩/০৯/২০১১ইত]

নারী: যে কথা হয়নি বলা

. বাংলাদেশের নারীর বাস্তবতা বিজ্ঞাপনচিত্রে নারীর উপস্থাপন শ্রম শোষণের চক্রে নারী

তে

০. £

বাংলাদেশের নারীর বাস্তবতা

এই কিছুদিন আগেই শেষ হলো বিশ্ব নারী দিবস। সারা বিশ্বে বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে বিশ্ব নারী দিবস পালন করা হলো। এমনকি বাংলাদেশেও নারীর অধিকার কিংবা নারীর সফলতা নিয়ে বেশ হৈচৈ করা হচ্ছে। আর তাই প্রশ্নটি বারবার আমার মাথায় এসেছে দেশের কতজন নারী এই দিবসের খবর রাখে কৌতুহলী হয়ে আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই সেখানকার ডেস্ক অফিসার মেয়েটিকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করেছিলাম তার সংক্ষিপ্ত উত্তর, স্যার এসব আমি ভুলেই গেছি' যেখানে গড়ে ৮০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে সেখানকার নারী-রা এসবের কিছুই জানে না। এটি একেবারে শহরকেন্দ্রিক। বিষয়টি হয়তো কিছুটা সত্য, তবে এমন দিবস দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল বয়ে আনতেও পারে, যা ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পৃক্ত

কোন সমাজের নারীচিত্র সে সমাজের অবস্থা বুঝতে সহায়তা করে এমনকি বলা হয়ে থাকে নারীর “মর্যাদা অবস্থান" দ্বারা সমাজের অবস্থানও নির্ধারিত হয়। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশে ২০১০-এর নারী মানবাধিকার চিত্র উপস্থাপন করা যেতে পারে। নারী বিষয়ক সংখ্যাতত্ব আমাদেরকে বুঝতে সহায়তা করবে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রতন্ত্রে নারী কতটা নিরাপদ, কিংবা তার নিরাপত্তা দিতে আমরা কতটা সক্ষম

নারী মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র-২০১০ দেখা যায়, বছরে এসিড নিক্ষেপে আহত হয়েছে ১৩৯, এসিড নিক্ষেপের নিহত ৩, ফতোয়ার শিকার ৩৮, পারিবারিক কলহে নির্যাতনের শিকারে আহত হয়েছে ৮৬, পারিবারিক কলহে নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত ২৫৪, যৌতুকের কারণে হত্যা ২৪৯, যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার ১২২, রহস্যজনক মৃত্যু ১২৩, ধর্ষণের পর হত্যা ৩৪, গণধর্ষণের শিকার ১৭, জেল হাজতে মৃত্যু ২৪, গৃহ পরিচারিকা নির্যাতনের শিকারে আহত ৩২, গ্ৃহপরিচারিকা নির্ধাতনের শিকারে নিহত ৪৫, অপহরণ ৬৩, আত্মহত্যা ৩৪৫, পাচার ৪, ইভটিজিংয়ের শিকার ২৭৩ জন, (সুত্র : মানবাধিকার উন্নয়ন উদ্যোগ ফাউন্ডেশন, ২২/২০-এ, খিলজী রোড, ঢাকা) (দৈনিক পত্রিকার উপর ভিত্তি করে রিপোর্টটি তৈরি হয়েছে)

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১০ সালে হাজার ১৮৫১ জন নারী নানারকম নির্যাতনের শিকার হয়েছে যার মধ্যে আহত হয়েছে ৭৭৪ জন আর নিহত হয়েছে ১০৭৭ জন আহত হওয়ার কারণ হিসেবে “এসিড সন্ত্রাস সবার শীর্ষে ১৩৯ জন নারীর মুখমণ্ডল ঝলসে গেছে এসিডে এর পরেই আছে “যৌতুকের কারণে নির্যাতন' যার সংখ্যা

১২২ ঘটনা দুটির মধ্যে একটি যোগসূত্র আছে আর তা হলো একটি বিয়ের আগে এবং অন্যটি পরের ঘটনা একজন কিশোরীকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা অথবা গর্হিত প্রস্তাবনায় কোন প্ররুষের প্রত্যাখ্যাত হওয়া থেকে প্রতিশোধ হিসেবে পুরুষ 'এসিড' ব্যবহার করে থাকে অন্যটি প্রিয় নারীকে কাছে পাওয়ার পরে সেই প্ররুষই নির্যাতন করে থাকে যৌতুকের" নামে ঘটনা দুটির মধ্যে এই যে যোগগনুত্র তা কিছুটা অদ্ুতও বটে তবে এর মধ্যেও পুরুষের 'পৌরুষ' মানসিকতায় দায়ী কারণ সে মনে করে পুরুষ হিসেবে তার কর্তৃত্বের অধিকার চুড়ান্ত নারীর ওপর আর তা থেকেই আসে ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ ২০১০ সালে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৭ জন নারী এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৩৪ জনকে অর্থাৎ এখনো নারকীয়তা ভয়াবহভাবে উপদ্থিত। “ফতোয়া, এবারও আলোচিত হয়েছে এবং ৩৮ জন নারীকে ফতোয়ার মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ আদালত বহির্ভূত শাস্তির ব্যবস্থা বা কেবল নারীরই জন্য।

নারীর আত্মহত্যা এখন পর্যন্ত বড় সামাজিক সমস্যা প্রাপ্ত তথ্যমতে, ৩৪৫ জন নারী আত্মহত্যা করেছে। আত্মহত্যা যখন কোন সমাজে ব্যাপকভাবে সংগঠিত হয় তখন সামাজিক সংহতি সংকটাপন্ন নিশ্চিতভাবেই বলা যায়। কারণ ব্যক্তি যখন বেচে থাকার মতো সব অবলম্বন থেকে বঞ্চিত হয় তখনই সে আত্মহত্যা করে। বাংলাদেশে নারীর আত্মহত্যা ব্যাপক এবং কিছুটা অনালোচিতও বটে। প্রকৃত সত্য হলো রাষ্ট্রের নীরব ভূমিকা পারে না নারীকে বেঁচে থাকার মতো স্বগ্ন দেখাতে, যা আমাদের সমাজের চুড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচায়ক লক্ষ্য করা যায়, বহু আলোচিত ইভটিজিংয়ের সংখ্যা কম নয়। এত কিছুর পরও ২৭৩ জন কিশোরী ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছে। যদিও এক্ষেত্রে ইতোমধ্যে বেশ কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যে বিষয়টি বেশ আতঙ্কিত করেছে তাহলো, জেল হাজতে ২৪ জন নারীর যৃত্যু। কিভাবে জেল হাজতে এত জন নারীর মৃত্য হলো তা স্পষ্ট নয়। তাহলে কি কথা বলা যায় না, রাষ্ট্রের হাতে এখনো নারী নিরাপদ নয়।

সংখ্যাতত্বের উপর আমার আস্থা কম কারণ প্রায় ক্ষেত্রেই সংখ্যার বাইরে বিরাট সংখ্যা অপেক্ষা করে যা আমরা জানি না। আবার কখনো একটি ঘটনা আমাদেরকে বিমুটু করে, ইঙ্গিত করে সীমাহীন ব্যর্থতার, কি সমাজ বা রাষ্্রতন্ত্রের। আলোচনাটি শেষ করব একটি ঘটনা দ্বারা যা সবার জানা ফেলানীর যৃতদেহটা কাঁটাতারের বেড়ায় আটকে ছিল অনেকটা সময়; অনেকে বাংলাদেশই ঝুলে ছিল বলেছে। ছোট্ট কিশোরী, যে হয়তো হাতের মুঠোয় পৃথিবী ধরার স্বপ্ন দেখেনি, কিন্তু নিশ্চয়ই বাংলার জল, বায়ু আর নীল আকাশের নিচে দৌড়ঝাঁপ করে বাঁচতে চেয়েছিল; এবং ভাবতে কষ্ট হয় না দরিদ্রতার মাঝেই হলফ করে বলতে পারি নিশ্চয়ই কাজী

নজরুল ইসলামের কবিতার লাইনটিও জানত না “হে দারিদ্র তুমি মোরে করেছো মহান" ... অতঃপর কত কি-ই না তাকে নিয়ে বাংলাদেশের চলছে কিন্তু প্রকৃত সত্য একটাই রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে তাকে বাঁচাতে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের কোন মিছিলের সামনে হঠাৎই যদি ফেলানীর যৃতদেহটা দাঁড়িয়ে পড়ে তাহলে... বর্তমানে যার বড়ই অভাব। আর তার জন্য কেবল শহর নয় গ্রামীণ নারীদেরও সম্প্ক্ততা অতি প্রয়োজন

[দৈনিক সংবাদ, তারিখ: ০৩/০৪/২০১১ইত]

বিজ্ঞাপনচিত্রে নারীর উপদ্থাপন

বিজ্ঞাপনচিত্রে নারীর উপস্থাপনা সম্পুর্ণ বাণিজ্যিক, যেখানে নারী নিজেও পণ্য নারীর দৈহিক আবেদন, গ্ল্যামার, অঙ্গভঙ্গি ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় পণ্যটির বাজার তৈরি করা কিংবা কাটতি বৃদ্ধি করার জন্য

ঠিক কবে, কোথায় বিজ্ঞাপনে নারীকে প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল তার সঠিক তথ্য জানা নেই কিংবা কেন নারীকে পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণে প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল তার উত্তর হয়তো যাদের মস্তিষ্ক থেকে আইডিয়া বের হয়েছিল তারাই দিতে পারেন। কিন্তু এটি ঠিক গ্লোবালাইজেশনের আজকের যুগে যেখানে মুনাফাই হচ্ছে বাণিজ্যের প্রথমত এবং শেষত, একমাত্র লক্ষ; সেখানে নারীকে" পণ্যের বাণিজ্যিকীকরণে ব্যবহার নিয়ে পুনঃ পুনঃ আলোচনা হতেই পারে এবং আমাদের মতো “আধা রক্ষণশীল-আধা আধুনিক' সমাজে আলোচনা যথেষ্ট যৌক্তিকও বটে বিষয়টি কেবল নৈতিকতার নয়, এটি নারী অধিকারের সঙ্গেও জড়িত তবে বলে নেয়া ভালো, বর্তমান আলোচনায় “বিজ্ঞাপনচিত্রে নারী*র উপস্থাপনাকে যথাযথ বিশ্লেষণের সঙ্গে তুলে ধরা হবে যেখানে ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছার প্রতিফলনের সুযোগ নেই প্রথমেই নিরীক্ষা করা হবে বিজ্ঞাপনচিত্রে নারীর উপস্থিতি কতটা বাণিজ্যিক, কতটা প্রতিভার স্ফুরণ পুঁজিবাদের মুল লক্ষ্য হলো প্রজির পুনগ্রপৌণক রদ্ধিকরণ এবং এজন্য যে কোন কাজ করতে পুঁজিবাদী সমাজ রাজি পণ্যের ব্যাপক উৎপাদন, বাজারে উপস্থিতি ইত্যাদি বিষয় উৎপাদক শ্রেণীকে বাধ্য করেছে পণ্যের বাজার সৃষ্টি করতে লোভনীয়ভাবে পন্যের উপস্থাপনে যার অন্যতম পদক্ষেপ বিজ্ঞাপন; যাতে ঘরে বসেই জানতে পারে পণ্যটি সম্পর্কে উৎপাদক ব্যবসায়ীক স্বার্থে সেটি করতেই পারে, প্রশ্নটি ওঠে যখন “নারীকে সেই পণ্যের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়। উদ্দেশ্য সেই নারীর “শারীরিক আবেদন' পণ্যের বাজার সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। পুরুষ ক্রেতারা আকৃষ্ট হবে পণ্যটি ক্রয়ে এখানে যে প্রশ্নটি উত্তরহীন' অবস্থায় লুকিয়ে থাকে তাহলো “বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত নারীও কি পণ্য' আকারে উপস্থিত হচ্ছে? এখানে শালীন-অশালীন প্রশ্নটি বিলম্বে বিবেচ্য

প্রথমেই আমাদের টিভি চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত হাল আমলের একটি আযাডের কথা না উল্লেখ করে পারছি না। রবির রঙে বাংলাদেশ' নামক আ্যাডে দেখানো হয়েছে অনেকগুলো মেয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে নেচে চলেছে। কখনো বৃষ্টিতে ভিজে, কখনো জলে সাঁতার কেটে , দল বেঁধে নেচে চলেছে। জনপ্রিয় একটি মোবাইল কোম্পানি রবির বিজ্ঞাপন এটি আর একটি কথা বলি, এলিট পেইন্টের একটি আ্যাড “রাঙিয়ে দাও'-এ দেখা

যায় একটি মেয়ে বৃষ্টিতে ভিজছে, তার চুড়ি বেয়ে জল পড়ছে টুপটাপ; এখন প্রশ্নটি দেখা দিতেই পারে মুল বিষয়বস্তুর সঙ্গে নারীর উপস্থাপন কতটা যৌক্তিক?

এখানে দুটি দিক, একদল মেয়েকে লাল রঙের (রবির রঙ) পোশাকের মাধ্যমে সবার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে; এবং আবার সেই সাধারণ ধারণা থেকে 'পর্দায় নারীর উপস্থিতি দর্শকের মনোযোগ বেশি আকর্ষণ করে'। একেবারে শেষে জানা যায় মূল কোম্পানির নাম, উপস্থাপিত এলিট পেইন্টের আ্যাডটিকে, বড়জোর কাব্যিক বলা যায়; তবে একটি মেয়ের উপস্থাপনা কিছু প্রশ্ন জন্ম দিতেই পারে নারী এখানে একেবারে “পণ' কিনা? উত্তরটি হচ্ছে হ্যাঁ' অবশ্যই

নারীকে বিজ্ঞাপনচিত্রে উপস্থাপন সম্পর্কিত একটি বিশ্লেষণ হলো পণ্যের মডেল হিসেবে নারীর উপস্থাপনা সম্পুর্ণ বাণিজ্যিক, যেখানে নারী নিজেও পণ্য নারীর দৈহিক আবেদন, গ্লামার, অঙ্গভঙ্গি ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় পণ্যটির বাজার তৈরি করা কিংবা কাটতি বৃদ্ধি করার জন্য যেখানে নারী হারিয়ে ফেলেছে তার নিজস্ব সত্ত্বা, অস্তিত্ব, এমনকি মানবিক বিষয়গুলোও |

বিষয়ে যে প্রশ্নগুলো বারবার সামনে আসে তার মধ্যে যেমন “নারীর আপন সম্তা হারিয়ে যাওয়া' তেমনি গুরুত্বপুর্ণ হল নৈতিকতার প্রশ্নটি অর্থাৎ কোন পণ্যে যিনি বা যারা মডেল হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছেন তারা পণ্যের গুণগত মান সম্পর্কে কতটা নিশ্চিত? পণ্যের দাম সম্পর্কে অজ্ঞ হলে অসংখ্য ভোক্তাকে চোখ বুজে ধোঁকা দিচ্ছেন স্রেফ টাকার কারণে দ্বিতীয় এবং সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপুর্ণ অন্য বিষয়টি হল “সামাজিক দায়বদ্ধতা" বিখ্যাত মডেল/অভিনেত্রী যিনিই হোন না কেন সমাজের প্রতি তারও যে দায়বদ্ধতা আছে তা তারা ভুলেই যান। দায়হীনতার প্রথমটি হলো আপন সংস্কৃতির প্রতি বৃদ্ধাঙ্ুলি প্রদর্শন